বৃহঃস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ । ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় বিআইআইডি এক্সপো শুরু, অংশ নিচ্ছে ১২ দেশের ১৪০ প্রতিষ্ঠান

অনলাইন ডেস্ক »

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের টেকসই বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, সবুজ নির্মাণপ্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিল্পপ্রযুক্তি খাতকে সামনে রেখে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ১৫তম আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপো অ্যান্ড ডায়ালগ ২০২৬। এক্সপোনেট একজিবিশনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৭ থেকে ৯ মে পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে এক বহুমাত্রিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রপ্তানি ও নগরায়ণের চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি যেমন জরুরি, তেমনি বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি কৌশলকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও সহনশীল হতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, গ্রিন ফুয়েল, আধুনিক গ্রিড ও জ্বালানি দক্ষতার ওপর এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন আর শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। রুফটপ সোলার, শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, কৃষি সেচ এবং অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, স্টোরেজ সক্ষমতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়কে জাতীয় অগ্রাধিকারে আনার আহ্বান জানান তিনি।

আয়োজক এক্সপোনেট এক্সিবিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, এবারের আয়োজনে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যা প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, নির্মাণপ্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তি, পণ্য ও সমাধান তুলে ধরতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু পণ্য প্রদর্শনী নয়; বরং ব্যবসায়িক সংযোগ, জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি ক্ষেত্র। দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণে নতুন অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এ ধরনের আয়োজন সেই সুযোগ তৈরি করে।

সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এখন সময়ের দাবি। সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, সবুজ জ্বালানি শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি। এই প্রদর্শনী বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রদানকারী ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করবে।

বাংলাদেশ এলিভেটর এস্কেলেটর এন্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)-এর সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, নগরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নিরাপদ ও দক্ষ প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। লিফট বিলাসী পণ্য নয়, বরং অপরিহার্য প্রযুক্তি। এটি মূলধনী যন্ত্রপাতি খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দৈনিক সময়ের আলো’র চিফ অপারেশন অফিসার মুনিফ আম্মার এবং এসকিউব টেকনোলজিস লিমিটেডের পরিচালক আসাদুল্লাহ আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, এমন আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে আনে এবং গণমাধ্যম এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই ভেন্যুতে বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো।

এছাড়া দুবাই ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উদ্যোগে ছয়টি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক বাজার সংযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধান অতিথি বলেন, বিআইআইডি এক্সপো অ্যান্ড ডায়ালগ শুধু প্রদর্শনী নয়; এটি সংলাপ, ব্যবসায়িক সংযোগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ বিনিয়োগ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শেষে তিনি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আপনার মন্তব্যটি লিখুন
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »