শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর নুরের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ও অগ্নিসংযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি »

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার অন্তর্গত ধজনগর গ্রামে আঃলীগ নেতা মো: আব্দুর নুরের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় নুরের স্ত্রী সেলিনা বেগম মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

গতকাল ২৫ মার্চ আনুমানিক রাত ১০টার দিকে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মুখোশ পরে মো: আব্দুর নুরের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং নুরকে খুঁজতে থাকে। নুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী, সেলিনা বেগম ও গৃহপরিচারিকাকে বেধড়ক পিটাতে থাকে এবং হুমকি দিতে থাকে যে নুরকে প্রকাশ্যে এসে তাদের হাতে ধরা না দিলে তার স্ত্রীকে হত্যা করবে। সেলিনা বেগম সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে থাকা নগদ অর্থ ও অলংকার লুট করে। পরে তারা মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। তারা নুরের বাড়ির গৃহকর্মিকে এই বলে হুমকি দিয়ে যায় যে নুর যেন তার ছেলে নাজমুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুলিশের হাতে ধরা দেয়। অন্যথায় নুরের স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, মো:আব্দুর নুর আঃলীগের নেতা ও তার একমাত্র ছেলে নাজমুল ইসলাম ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ৭ই আগস্ট নুরের বাড়িতে একবার হামলা ও লুটতরাজ হয় এতে নুর ও নুরের ছেলেকে হামলাকারিরা হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু ভেবে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নুর ও তার ছেলেকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে নূর ও তার ছেলে কে এলাকায় আর দেখা যায়নি।

এলাকা বাসী আরো জানায় যে তারা শুনেছে নুরের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল দেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছে। গত কয়েকদিন আগে নুরের ছেলে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি শুরু হয় এবং গত ২৫ মার্চ রাতে তাদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। এই হামলায় নুরের স্ত্রী ও গৃহকর্মী আহত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নুর ও তার ছেলে নাজমুল জুলাই আন্দোলনে সরকারের পক্ষে মিছিল-মিটিং এ অংশগ্রহন করে। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা বিশেষ করে ছাত্রদল নেতা মো: রিপন পাঠান ও তার অনুসারিরা নুর ও নাজমুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হন এবং তারা হামলা চালিয়ে নুর ও নাজমুলকে নির্মমভাবে আঘাত করে মৃত্যুভেবে রেখে চলে যায়। এরপর গোপনে নুর তার ছেলে নাজমুলকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা স্বপন ও মাসুদের নির্দেশনায় রিপন ও তার অনুসারিরা গতরাতের এই হামলা চালান বলে ধারণা করছেন।

এলাকার মুদি দোকানদার, রহমান শরীফ, আমাদের প্রতিনিধিকে জানান যে এই পরিস্থিতিতে নুর পালিয়ে থাকলেও তার স্ত্রীর জীবন হুমকির মুখে।

হাসপাতালে থেকে নুরের স্ত্রী জানান এই নিয়ে দুই দুই বার তারা হামলার শিকার হলেন এবং ছেলের নিরাপত্তার জন্য ছেলে কে লন্ডনে পাঠিয়ে দিলেও তার স্বামীর জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তিনি আরও জানান তিনি ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তারা কোনও সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন নুরের স্ত্রী।

এই হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান বলেন, নুরের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন কিন্তু কারা এই হামলা করেছে সে ব্যাপারে তার কোন ধারণা নেই।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরকে এই ব্যাপারে ফোন করলে তিনি এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান।

আপনার মন্তব্যটি লিখুন
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »