সম্প্রতি স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। টেসলার সিইও হিসেবে আগে থেকেই তার কাছে ২৭৯ বিলিয়ন ডলারের স্টক ছিল।
স্পেসএক্সের আইপিও ছাড়ার পর, কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক হিসেবে তার সম্পদে আরও ৯৮২ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়। এর ফলে শুধু এই দুটি পাবলিক কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। তবে এই সম্পদ পুরোটাই কাগুজে (শেয়ারের মূল্য), যা বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিশালত্ব বোঝাতে বলা যায়, কেউ যদি প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টায় ১ মিলিয়ন ডলার করেও খরচ করেন, তাও এই অর্থ শেষ করতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে।
মাস্কের এই বিপুল সম্পদের গভীরতা বোঝাতে নিচে এমন ৬টি বিষয়ের তুলনা দেওয়া হলো, যেগুলোর আর্থিক মূল্য তার সম্পদের চেয়েও কম:
অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) মতে, বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতি ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বড়।
অর্থাৎ, তাইওয়ান ($৯৭৭ বিলিয়ন), আয়ারল্যান্ড ($৭৭৯ বিলিয়ন), সুইডেন ($৭৬০ বিলিয়ন), সিঙ্গাপুর ($৬৬০ বিলিয়ন) এবং মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার ($৪৮০ বিলিয়ন) মতো দেশের অর্থনীতিও তার একক সম্পদের চেয়ে ছোট।
ম্যানহাটনের অর্থনীতি: আমেরিকার আর্থিক কেন্দ্র ম্যানহাটন দ্বীপের ২০২৪ সালের মোট জিডিপি ছিল ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি, যা মাস্কের সম্পদের চেয়ে কম।
হিউস্টনের সব সম্পত্তি: যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম শহর হিউস্টনের সমস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ি: ২০২৫ সালে আমেরিকানরা রেকর্ড দামে প্রায় ১৬.৩ মিলিয়ন নতুন গাড়ি কিনেছিল। দেশজুড়ে বিক্রি হওয়া এই বিশাল সংখ্যক গাড়ির মোট বাজারমূল্য ছিল ৭৮৯ বিলিয়ন ডলার।
অন্যান্য বিলিয়নিয়ারদের সম্মিলিত সম্পদ: বিশ্বের পরবর্তী শীর্ষ চার ধনী- ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, ল্যারি এলিসন এবং জেফ বেজোসের মোট সম্পদ একত্রে যোগ করলেও তা দাঁড়ায় ১.০৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের একার সম্পদের চেয়ে কম।
বিশ্বের শীর্ষ স্পোর্টস টিমসমূহ: ফোর্বসের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫০টি পেশাদার স্পোর্টস টিমের (যেমন: ডালাস কাউবয়েজ বা টরন্টো র্যাপটরস) সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের মোট সম্পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
বাণিজ্যের ইতিহাসে একজন ব্যক্তির হাতে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।

