শনিবার, ০৮ জুন ২০২৪ । ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আপনি খবর রাখেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ

অনলাইন ডেস্ক »

নিউজটি শেয়ার করুন

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশের সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, করোনায় দেশের অবস্থা খুব খারাপ।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চে এক মামলার শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগের অধিক সংখ্যক বেঞ্চ খুলে দেয়ার কথা বলেন। তখন প্রধান বিচারপতি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি খবর রাখেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ।

তখন উত্তরে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মাই লর্ড সেটা তো জানি। আমি অন্য একটা বিষয়ে বলতে চাই। সেটা হলো বিধিনিষেধ ঘোষণার পূর্বে দেয়া হাইকোর্টের আদেশগুলো দেশের সব আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যটি হলো, সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্টের বুথটি খোলা রেখে আইনজীবীদের টেস্টের সুযোগ করে দিন।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি তো বাইরের লোক আসতে দিতে চাই না। আরেক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, করোনা টেস্ট তো হচ্ছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, বারের মেম্বাররা (সদস্য) কি কোর্টে আসে? প্রধান বিচারপতি বলেন, আচ্ছা আমরা এটা বুঝে বলব, এটা করলে অনেক লোক চলে আসবে। আইনজীবীরাও তো এফেক্টেড (সংক্রমিত) হচ্ছেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুতে (পিজি হাসপাতাল) দেখেন আইনজীবীদের জন্য আলাদা একটি বুথের ব্যবস্থা করতে পারেন কি না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওখানে পারা যাবে না। পরে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্ট বুথে আইনজীবীদের আইডি কার্ড দেখে করোনা টেস্টের সম্মতি জানান।

ফাঁসি সমাজকে রক্ষা করতে পারে না

কেবল সাজার মাধ্যমেই সমাজকে অপরাধ মুক্ত করা যে অসম্ভব সে বার্তাও দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ফাঁসি (হ্যাংগিং) কিন্তু সমাজকে (সোসাইটিকে) রক্ষা করতে পারে না।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ইন্ডিয়ার থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (ল’ এন্ড অর্ডার সিচুয়েশনে) কোন অংশেই খারাপ না। কিন্তু ইন্ডিয়াতে ২০১৯ সালে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ১২১ জনের আর আমাদের এখানে হয়েছে ৩২৭ জনের। আমাদের এখানে স্ত্রী হত্যায় (ওয়াইফ কিলিং) স্বামীর ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হচ্ছে। কিন্তু ফাঁসি বা যাবজ্জীবনের এই সাজায় কি স্ত্রী হত্যা (ওয়াইফ কিলিং) কমেছে? কমেনি। সুতরাং এটা ভুল ধারণা যে, সাজা দিলেই আমরা অপরাধ মুক্ত হয়ে যাব।

আপনার মন্তব্যটি লিখুন
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »