রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল চকবাজার এলাকার কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাহিদ-উর-রহমান নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে আওয়ামী লীগ ও হেফাজত ইসলামের সদস্যরা। গত সোমবার (২৭ নভেম্বর) ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয় বলে জানান তার পরিবার। এরপর তাকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণ নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় ফেলে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাবের হোসেন পাপনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও হেফাজত ইসলামের সদস্যরা তাকে চোখ ও হাত বেঁধে একটি মাইক্রোভ্যান করে তুলে হাজী মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিমের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। এ সময় মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানীসহ হেফাজত ইসলামের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল কোষাধ্যক্ষ হওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হেফাজত নেতারা।
হত্যার উদ্দেশ্য মাথায় নিয়ে তাকে হেফাজত নেতারা নির্যাতন শুরু করে। এসময় অপহরণে জড়িত জাবের হোসেন পাপন অন্যদেরকে হত্যা করতে বাধা দিয়ে বলেন, হাজী সেলিমের নির্দেশ রয়েছে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার। এরপর জাবের হোসেন পাপন ও তার সহযোগীরা টর্চার সেলে রেখে পরিবারের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তার স্ত্রী ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা সাত দিনের মধ্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে তারা গভীর রাতে শহীদ মিনার এলাকায় মোহাম্মদ নাহিদ-উর-রহমানকে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় পথচারীরা দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে ভর্তি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এর চকবাজার এলাকার কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাহিদ-উর-রহমান নামের এক ব্যক্তিকে অজ্ঞান অবস্থায় পথচারীরা নিয়ে আসে। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে তারা এখানে রয়েছেন। তিনি সুস্থ্য হওয়ার পর আমরা তার বক্তব্য নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

