মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাওয়া ফেরিঘাট এখন “অদৃশ্য মাফিয়া” কবলে!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি »

নিউজটি শেয়ার করুন

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট ও এর আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে অনেকে “অদৃশ্য মাফিয়া” আখ্যায়িত করে থাকেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুরি, ভারত বা চীন থেকে আসা শিপিং কন্টেইনার পোর্ট থেকে অদৃশ্য হওয়া এবং অননুমোদিতভাবে কন্টেইনার অন্য দেশে পাঠানোর, নারী পাচার, পতিতাবৃত্তির মতো অপরাধ এখানে এখন অহরহ হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। তবে এসবের পিছনে এক জনের নাম আসলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ।

শিপিং পোর্ট এর মালিক আশরাফ হোসেন খান একটি নাম মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাটে। যার অদৃশ্য হাত এখন সর্ব মহলে। কোন জায়গায় তার প্রভাব নেই তা বুঝা মুশকিল। এ যেন এক দানবের হাত! সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ছোট যানবাহনের চালক ও সাধারণ ভোক্তারা।

লাইসেন্সহীন দোকানে যত্রতত্র তেল মজুত এখন স্থানীয়দের কাছে এক মূর্ত আতঙ্ক। অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে এভাবে দাহ্য পদার্থ বিক্রয় করা হলেও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ভোক্তারা জানাচ্ছেন, স্থানীয়ভাবে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠায় তারা নায্যমূল্যে তেল পাচ্ছেন না। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায়, আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে এসকল ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ দোকান বন্ধ করা হোক এবং স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
মাত্র দুইশত টাকা থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে মনের শত অনিচ্ছাসত্বেও নারীর সর্বোচ্চ মূল্যবান সম্পদ ‘সম্ভ্রম’ বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য-১৮ বছরের নিচে কোন নারী যৌন পেশায় লিপ্ত হতে পারবে না বলে আইনানুগ নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নাবালিকা কিশোরীদরকে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।।

অন্যথায়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করাসহ অনাহারে থাকতে হয়। অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে, আত্মহত্যার মত ঘটনা হার-হামেশাই দেখা যায় বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে পরিচয় গোপন রেখে কয়েকজন বাড়িওয়ালীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান,এ বাবদ স্থানীয় প্রশাসনকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে হয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সহজ সরল মেয়েদের ভাল কর্মসংস্থানের আশ্বাস অথবা প্রেমের ফাঁদে ফেলে দালালরা এখানে নিয়ে এসে বিক্রি করে। অসহায় নারীরা যখন বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন, তখন তাদের আর কিছু করার থাকে না। মেয়ে কেনা-বেচার মাধ্যমকেও প্রচুর টাক দিতে হয়। প্রতিমাসে ওপর মহলে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন-যৌনতা ও মাদকদ্রব্যের মত ঘৃণ্য বস্তুর সহজলভ্যতার শিকার হয়ে এলাকার যুবসমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এদেরকে রক্ষা করতে স্থানীয় ঐক্য ও প্রশাসনের দৃঢ় হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরী। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মত ঘটনা এই অঞ্চলে নিত্যনৈমত্তিক।

আপনার মন্তব্যটি লিখুন
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »